২০২৫ সালের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার ইতিহাস বিষয়ে সম্পূর্ণ সিলেবাসের সাজেশন্ ভিত্তিক পিডিএফ নোটস্ নেওয়ার জন্য যোগাযোগ করুণ (দাম প্রতি ক্লাস ৯৯ টাকা)।

👉Chat on WhatsApp

দশম শ্রেণী (তৃতীয় অধ্যায়): প্রতিরোধ ও বিদ্রোহ-বৈশিষ্ট্য ও বিশ্লেষণ হতে অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর (SAQ)

দশম শ্রেণী (তৃতীয় অধ্যায়): প্রতিরোধ ও বিদ্রোহ-বৈশিষ্ট্য ও বিশ্লেষণ হতে অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর (SAQ)

দশম শ্রেণী (তৃতীয় অধ্যায়): প্রতিরোধ ও বিদ্রোহ-বৈশিষ্ট্য ও বিশ্লেষণ হতে অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর (SAQ)

১. ভারতীয় উপজাতিদের দ্বারা অরণ্যের সম্পদ আহরণ বন্ধ করার উদ্দেশ্যে ব্রিটিশ সরকার কোন আইন পাস করে?

উত্তর:- ভারতীয় উপজাতিদের দ্বারা অরণ্যের সম্পদ আহরণ বন্ধ করার উদ্দেশ্যে ব্রিটিশ সরকার ‘ঔপনিবেশিক অরণ্য আইন’ পাস করে।

২. কার প্রচেষ্টায় ভারতে ইন্ডিয়ান ফরেস্ট সার্ভিস চালু হয়?

উত্তর:- দিয়েত্রিখ ব্র্যান্ডিসের প্রচেষ্টায় ভারতে ইন্ডিয়ান ফরেস্ট সার্ভিস চালু হয়।

৩. দিয়েত্রিখ ব্র্যান্ডিস কে ছিলেন?

উত্তর:- দিয়েত্রিখ ব্র্যান্ডিস ছিলেন ভারতে ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক গঠিত বনবিভাগের (১৮৬৪ খ্রি.) প্রথম ইনস্পেকটর-জেনারেল।

৪. রম্পা বিদ্রোহ কবে হয়েছিল?

উত্তর:- রম্পা বিদ্রোহ হয়েছিল ১৮৭৯ খ্রিস্টাব্দে।

৫. সরকার কোন্ আইনের দ্বারা অরণ্যকে সংরক্ষিত অরণ্য, সুরক্ষিত অরণ্য ও গ্রামীণ অরণ্য – এই তিন ভাগে বিভক্ত করে?

উত্তর:- ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দের ‘অরণ্য আইন’-এর দ্বারা সরকার অরণ্যকে সংরক্ষিত অরণ্য, সুরক্ষিত অরণ্য ও গ্রামীণ অরণ্য-এই তিন ভাগে ভাগ করে।

৬. ভারতে ব্রিটিশ সরকার প্রথম কোন পদক্ষেপের দ্বারা অরণ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি করে?

উত্তর:- ভারতে ব্রিটিশ সরকার ১৮৫৫ খ্রিস্টাব্দে অরণ্য সনদ-এর দ্বারা অরণ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি করে।

৭. বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী আদিবাসীদের শায়েস্তা করতে সরকার কী আইন পাস করে?

উত্তর:- বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী আদিবাসীদের শায়েস্তা করতে সরকার ‘ক্রিমিনাল ট্রাইব্‌ক্স অ্যাক্ট’ পাস করে।

৮. ভারতীয় অরণ্য আইন কবে পাস হয়?

উত্তর:- ১৮৭৮ খ্রিস্টাব্দে ‘ভারতীয় অরণ্য আইন’ পাস হয়।

৯. রংপুরের স্থানীয় স্বাধীন সরকারের নবাব নুরুলউদ্দিনের সহকারী কে ছিলেন?

উত্তর:- রংপুরের স্থানীয় স্বাধীন সরকারের নবাব নুরুলউদ্দিনের সহকারী ছিলেন দয়ারাম শীল।

১০. ‘ডিং খরচা’ কী?

উত্তর:- রংপুর বিদ্রোহের (১৭৮৩ খ্রি.) সময় বিদ্রোহীরা বিদ্রোহের ব্যয় নির্বাহের জন্য চাঁদা ধার্য করে যা ‘ডিং খরচা’ নামে পরিচিত।

১১. কে ‘মেদিনীপুরের লক্ষ্মীবাই’ নামে পরিচিত?

উত্তর:- মেদিনীপুরের রানি শিরোমণি ‘মেদিনীপুরের লক্ষ্মীবাই’ নামে পরিচিত।

১২. কোম্পানির শাসনকালে সংঘটিত প্রথম কৃষকবিদ্রোহ কোনটি?

উত্তর:- কোম্পানির শাসনকালে সংঘটিত প্রথম কৃষকবিদ্রোহটি হল চুয়াড় বিদ্রোহ।

১৩. রংপুরের কৃষকরা কবে, কোথায় বিদ্রোহ ঘোষণা করে?

উত্তর:- রংপুরের কাজীর হাট, কাকিনা, ফতেপুর, ডিমলা প্রভৃতি স্থানের কৃষকরা ১৭৮৩ খ্রিস্টাব্দে তেপা গ্রামে অত্যাচারী ইজারাদার দেবী সিংহের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে।

১৪. রংপুর বিদ্রোহ দমনে কে ব্রিটিশ বাহিনীর নেতৃত্ব দেন?

উত্তর:- রংপুর বিদ্রোহ দমনে ম্যাকডোনাল্ড ব্রিটিশ বাহিনীর নেতৃত্ব দেন।

১৫. কেন রংপুর বিদ্রোহ বন্ধ হয়ে যায়?

উত্তর:- রংপুরের বিদ্রোহীরা মোগলহাট ও পাটগ্রামের যুদ্ধে ব্রিটিশ সেনাপতি ম্যাকডোনাল্ডের বাহিনীর কাছে পরাজিত হলে বিদ্রোহ বন্ধ হয়ে যায়।

১৬. কার বিরুদ্ধে, কবে রংপুর বিদ্রোহ শুরু হয়?

উত্তর:- রংপুরের অত্যাচারী ইজারাদার দেবী সিংহের বিরুদ্ধে ১৭৮৩ খ্রিস্টাব্দে রংপুর বিদ্রোহ শুরু হয়।

১৭. চুয়াড় বিদ্রোহ কতগুলি পর্বে সংঘটিত হয় ও কী কী?

উত্তর:- চুয়াড় বিদ্রোহ দুটি পর্বে সংঘটিত হয়। প্রথম পর্বের বিদ্রোহ ১৭৬৭ খ্রিস্টাব্দে এবং দ্বিতীয় পর্বের বিদ্রোহ ১৭৯৮ খ্রিস্টাব্দে শুরু হয়।

১৮. কোল বিদ্রোহ কোন অঞ্চলে প্রসার লাভ করে?

উত্তর:- কোল বিদ্রোহ সিংভূম, মানভূম, হাজারিবাগ ও পালামৌ জেলার সর্বত্র প্রসার লাভ করে।

১৯. কোন অঞ্চল নিয়ে জঙ্গলমহল জেলা গঠন করা হয়?

উত্তর:- বিষ্ণুপুর শহরকে কেন্দ্র করে বাঁকুড়া ও মেদিনীপুর জেলার দুর্গম বনাঞ্চল নিয়ে জঙ্গলমহল জেলা গঠন করা হয়।

২০. মহারাষ্ট্রের ভিল-অধ্যুষিত খান্দেশ অঞ্চল কবে ব্রিটিশ শাসনাধীনে আসে?

উত্তর:- মহারাষ্ট্রের ভিল-অধ্যুষিত খান্দেশ অঞ্চল ১৮১৮ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ শাসনাধীনে আসে।

২১. কোল উপজাতি কোথায় বসবাস করত?

উত্তর:- কোল উপজাতি প্রধানত বিহারের ছোটোনাগপুর ও তার নিকটবর্তী অঞ্চলে বসবাস করত।

২২. চুয়াড় বিদ্রোহের প্রধান নেতাদের নাম লেখো।

উত্তর:- চুয়াড় বিদ্রোহের প্রধান নেতা ছিলেন জগন্নাথ সিংহ, দুর্জন সিং, রানি শিরোমণি প্রমুখ।

২৩. কোল বিদ্রোহের প্রধান নেতা কারা ছিলেন?

উত্তর:- কোল বিদ্রোহের প্রধান নেতা ছিলেন বুদ্ধু ভগত, জোয়া ভগত, সিংরাই, ঝিন্দরাই মানকি, সুই মুন্ডা প্রমুখ।

২৪. ভয়েলকার কে ছিলেন?

উত্তর:- ভয়েলকার ছিলেন একজন জার্মান কৃষিবিদ, যিনি ভারতে এসেছিলেন।

২৫. ভিল উপজাতি কার প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বিদ্রোহ করে?

উত্তর:- ভিল উপজাতি মারাঠা নেতা ত্রিম্বকজির প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বিদ্রোহ করে।

২৬. কোল বিদ্রোহ কবে হয়েছিল?

উত্তর:- ১৮৩১-৩২ খ্রিস্টাব্দে কোল বিদ্রোহ সংঘটিত হয়েছিল।

২৭. হো-বিদ্রোহ কবে হয়েছিল?

উত্তর:- হো-বিদ্রোহ হয়েছিল ১৮২১ খ্রিস্টাব্দে।

২৮. বিদ্রোহের পর কোলদের জন্য কোন ভূখণ্ড নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়?

উত্তর:- বিদ্রোহের পর কোলদের জন্য দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্ত এজেন্সি নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়।

২৯. ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কবে ছোটোনাগপুর অঞ্চলের শাসনভার হাতে নেয়?

উত্তর:- ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৮২০ খ্রিস্টাব্দে ছোটোনাগপুর অঞ্চলের শাসনভার হাতে নেয়।

৩০. ভিল বিদ্রোহ কে দমন করেছিলেন?

উত্তর:- ভিল বিদ্রোহ দমন করেছিলেন ব্রিটিশ সেনাপতি কর্নেল আউট্রাম।

৩১. কোল বিদ্রোহীদের ওপর ব্রিটিশ বাহিনীর আক্রমণে কে নেতৃত্ব দেন?

উত্তর:- কোল বিদ্রোহীদের ওপর ব্রিটিশ বাহিনীর আক্রমণে নেতৃত্ব দেন ক্যাপটেন উইলকিনসন।

৩২. হো-বিদ্রোহ কোথায় হয়েছিল?

উত্তর:- হো-বিদ্রোহ হয়েছিল ছোটোনাগপুরের সিংভূম অঞ্চলে।

৩৩. গুন্ডা ধুর কে ছিলেন?

উত্তর:- গুন্ডা ধুর ছিলেন বাস্তার বিদ্রোহের নেতা।

৩৪. সাঁওতাল বিদ্রোহ কবে শুরু হয়?

উত্তর:- ১৮৫৫ খ্রিস্টাব্দে সাঁওতাল বিদ্রোহ শুরু হয়।

৩৫. ‘কেনারাম’ নামে বাটখারা কী কাজে ব্যবহার করা হত?

উত্তর:- ‘কেনারাম’ নামে বাটখারা সাঁওতালদের কাছ থেকে পণ্য কেনার জন্য ব্যবহার করা হত।

৩৬. ‘বেচারাম’ নামে বাটখারা কী কাজে ব্যবহার করা হত?

উত্তর:- ‘বেচারাম’ নামে বাটখারা সাঁওতালদের কাছে পণ্য বিক্রয়ের জন্য ব্যবহার করা হত।

৩৭. বিদ্রোহের আগে সাঁওতাল কৃষকদের কোন ধর্মে দীক্ষিত করার চেষ্টা করা হয়?

উত্তর:- বিদ্রোহের আগে সাঁওতাল কৃষকদের খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত করার চেষ্টা করা হয়।

৩৮. মহাজনরা সাঁওতালদের কিভাবে শোষন করতো?

উত্তর:- সাঁওতালরা নগদে রাজস্ব পরিষদের জন্য মহাজনদের কাছে ৫০% থেকে ৫০০% পর্যন্ত সুদের ঋণ নিতে বাধ্য হত।

৩৯. চাঁদ কোন বিদ্রোহের নেতা ছিলেন?

উত্তর:- চাঁদ সাঁওতাল বিদ্রোহের নেতা ছিলেন।

৪০. ব্রিটিশ শাসনকালে ভারতের উপজাতি বা আদিবাসী সম্প্রদায়গুলি সাধারণত কোন অঞ্চলে বসবাস করত?

উত্তর:- ব্রিটিশ শাসনকালে ভারতের উপজাতি বা আদিবাসী সম্প্রদায়গুলি সাধারণত অরণ্য ও পাহাড়ি অঞ্চলে বসবাস করত।

৪১. মহেন্দ্রলাল দত্ত কোন বিদ্রোহীদের হাতে নিহত হন?

উত্তর:- মহেন্দ্রলাল দত্ত সাঁওতাল বিদ্রোহীদের হাতে নিহত হন।

৪২. সাঁওতাল বিদ্রোহের আগে আদিবাসী সাঁওতালরা কোন অঞ্চলে বসবাস করত?

উত্তর:- সাঁওতাল বিদ্রোহের আগে আদিবাসী সাঁওতালরা ছোটোনাগপুর, পালামৌ, মানভূম, বীরভূম, বাঁকুড়া ও মেদিনীপুরের বিস্তীর্ণ বনভূমি অঞ্চলে বসবাস করত।

৪৩. ভারতে ব্রিটিশ শাসন প্রতিষ্ঠার পরবর্তীকালে এদেশে ব্রিটিশদের সহযোগী সাধারণত কারা ছিল?

উত্তর:- ভারতে ব্রিটিশ শাসন প্রতিষ্ঠার পরবর্তীকালে এদেশে ব্রিটিশদের সহযোগী ছিল সাধারণত জমিদার, ইজারাদার, মহাজন প্রমুখ।

৪৪. কালো প্রামাণিক ও ডোেমন মাঝি কোন বিদ্রোহের নেতা ছিলেন?

উত্তর:- কালো প্রামাণিক ও ডোমন মাঝি সাঁওতাল বিদ্রোহের নেতা ছিলেন।

৪৫. সরকারের অরণ্য আইনের ফলে সৃষ্ট অন্যতম বিদ্রোহ কোনগুলি?

উত্তর:- সরকারের অরণ্য আইনের ফলে সৃষ্ট অন্যতম বিদ্রোহগুলি হল চুয়াড় বিদ্রোহ, কোল বিদ্রোহ, সাঁওতাল বিদ্রোহ, মুন্ডা বিদ্রোহ, ভিল বিদ্রোহ প্রভৃতি।

৪৬. ‘উলঘুলান’ বলতে কী বোঝায়?

উত্তর:- ‘উলঘুলান’ শব্দের অর্থ ‘ভয়ংকর বিশৃঙ্খলা’ বা ‘প্রবল বিক্ষোভ’।

৪৭. মহাজনরা সাঁওতালদের কীভাবে শোষণ করত?

উত্তর:- সাঁওতালরা নগদে রাজস্ব পরিশোধের জন্য মহাজনদের কাছে ৫০% থেকে ৫০০% পর্যন্ত সুদে ঋণ নিতে বাধ্য হত।

৪৮. সাঁওতাল ছাড়াও কোন কোন শ্রেণির মানুষ সাঁওতাল বিদ্রোহকে সমর্থন করে?

উত্তর:- সাঁওতাল ছাড়াও স্থানীয় কামার, কুমোর, তাঁতি প্রভৃতি পেশার মানুষ সাঁওতাল বিদ্রোহকে সমর্থন করে।

৪৯. সাঁওতাল বিদ্রোহে কারা নেতৃত্ব দেন?

উত্তর:- সাঁওতাল বিদ্রোহে সিধু ও কানু নামে দুই ভাই, চাঁদ, ভৈরব, বীর সিং, কালো প্রামাণিক, ডোমন মাঝি প্রমুখ নেতৃত্ব দেন।

৫০. আদিবাসী মুন্ডারা কোন কোন সম্প্রদায়ে বিভক্ত ছিল?

উত্তর:- আদিবাসী মুন্ডারা সাঁওতাল, কোল, ভূমিজ, হো প্রভৃতি সম্প্রদায়ে বিভক্ত ছিল।

৫১. সাঁওতাল বিদ্রোহ কোন কোন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে?

উত্তর:- সাঁওতাল বিদ্রোহ ভাগলপুর থেকে মুঙ্গের পর্যন্ত, এমনকি বীরভূম ও মুরশিদাবাদ জেলার একাংশেও ছড়িয়ে পড়ে।

৫২. কাদের বিরুদ্ধে সাঁওতাল বিদ্রোহ শুরু হয়?

উত্তর:- ব্রিটিশ সরকার এবং তাদের সহযোগী জমিদার ও মহাজনদের বিরুদ্ধে সাঁওতালদের সশস্ত্র বিদ্রোহ শুরু হয়।

৫৩. সাঁওতাল বিদ্রোহের পর সিধু ও কানুর কী পরিণতি হয়?

উত্তর:- সাঁওতাল বিদ্রোহের পর সিধু ও কানুর ফাঁসি হয়।

৫৪. মহেন্দ্রলাল দত্ত কে ছিলেন?

উত্তর:- মহেন্দ্রলাল দত্ত ছিলেন দিঘি থানার একজন অত্যাচারী দারোগা, যিনি সাঁওতাল বিদ্রোহীদের হাতে নিহত হন।

৫৫. মুন্ডা বিদ্রোহের প্রধান নেতা কে ছিলেন?

উত্তর:- মুন্ডা বিদ্রোহের প্রধান নেতা ছিলেন বিরসা মুন্ডা।

৫৬. ‘খুঁৎকাঠি’ প্রথা কী?

উত্তর:- মুন্ডা সমাজে কৃষিজমিতে মুন্ডাদের যৌথ মালিকানা প্রচলিত ছিল যা ‘খুঁৎকাঠি’ প্রথা নামে পরিচিত।

৫৭. মুন্ডা বিদ্রোহ শুরু করার দিন কবে ধার্য হয়?

উত্তর:- মুন্ডা বিদ্রোহ শুরু করার দিন ধার্য হয় ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দের ২৪ ডিসেম্বর।

৫৮. বিরসা মুন্ডা কীভাবে মারা যান?

উত্তর:- বিরসা মুন্ডা মাত্র ২৫ বছর বয়সে রাঁচি জেলে কলেরা রোগে আক্রান্ত হয়ে ১৯০০ খ্রিস্টাব্দে মারা যান।

৫৯. বিরসা মুন্ডার উপাস্য দেবতা কে ছিলেন?

উত্তর:- বিরসা মুন্ডার উপাস্য দেবতা ছিলেন সিং বোঙ্গা অর্থাৎ সূর্য দেবতা।

৬০. বিরসা মুন্ডা কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?

উত্তর:- বিরসা মুন্ডা রাঁচি জেলার উলিহাত গ্রামে (১৮৭৫ খ্রি.) জন্মগ্রহণ করেন।

৬১. কাদের ওপর মুন্ডা বিদ্রোহীদের আক্রমণ চলে?

উত্তর:- সরকারি অফিস, থানা, গির্জা আক্রমণের পাশাপাশি জমিদার, মহাজন, পুলিশ ও ইংরেজ কর্মচারীদের ওপরও মুন্ডা বিদ্রোহীদের আক্রমণ চলে।

৬২. কে নিজেকে আধ্যাত্মিক শক্তির অধিকারী ‘ধরতি আবা’ বলে ঘোষণা করেন?

উত্তর:- বিরসা মুন্ডা নিজেকে আধ্যাত্মিক শক্তির অধিকারী ‘ধরতি আবা’ বলে ঘোষণা করেন।

৬৩. কোন বিদ্রোহী ঈশ্বরের প্রত্যাদেশ পেয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন?

উত্তর:- মুন্ডা বিদ্রোহের নেতা বিরসা মুন্ডা ঈশ্বরের প্রত্যাদেশ পেয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন।

৬৪. ঔপনিবেশিক ভারতে প্রথম কৃষকবিদ্রোহ কোনটি?

উত্তর:- ঔপনিবেশিক ভারতে প্রথম কৃষকবিদ্রোহ ছিল সন্ন্যাসী ও ফকির বিদ্রোহ (১৭৬৩-১৮০০ খ্রি.)।

৬৫. ‘দামিন-ই-কোহ’-এর অর্থ কী?

উত্তর:- ‘দামিন-ই-কোহ’ কথার অর্থ হল ‘পাহাড়ের প্রান্তদেশ’।

৬৬. তিতুমির কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?

উত্তর:- তিতুমির ২৪ পরগনা জেলার বাদুড়িয়া থানার হায়দারপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

৬৭. ভিল উপজাতি কোন কোন সময় বিদ্রোহে শামিল হয়?

উত্তর:- ভিল উপজাতি ১৮১৭-১৯, ১৮২৫, ১৮৩৫ এবং ১৮৪৬ খ্রিস্টাব্দে বিদ্রোহে শামিল হয়।

৬৮. আদিবাসীরা কাদের ‘দিকু’ বলত?

উত্তর:- আদিবাসীরা বহিরাগত জমিদার, মহাজন, ব্যবসায়ী প্রমুখকে ‘দিকু’ বলত।

৬৯. বাংলায় ওয়াহাবি আন্দোলনের প্রধান নেতা কে ছিলেন?

উত্তর:- বাংলায় ওয়াহাবি আন্দোলনের প্রধান নেতা ছিলেন তিতুমির।

৭০. কোন বিদ্রোহের ফলে, কবে ছোটোনাগপুর টেন্যান্সি অ্যাক্ট (প্রজাস্বত্ব আইন) পাস হয়?

উত্তর:- মুন্ডা বিদ্রোহের ফলে ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দে ছোটোনাগপুর টেন্যান্সি অ্যাক্ট (প্রজাস্বত্ব আইন) পাস হয়।

৭১. তিতুমির কোথায় ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘোষণা করেন?

উত্তর:- তিতুমির বারাসাত ও বসিরহাটের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘোষণা করেন।

৭২. সন্ন্যাসী ও ফকির বিদ্রোহে কারা নেতৃত্ব দেন?

উত্তর:- সন্ন্যাসী ও ফকির বিদ্রোহে নেতৃত্ব দেন ভবানী পাঠক, চিরাগ আলি, মজনু শাহ প্রমুখ।

৭৩. টিপু শাহ কোন আন্দোলনের নেতা ছিলেন?

উত্তর:- টিপু শাহ পাগলপন্থী আন্দোলনের নেতা ছিলেন।

৭৪. ফরাজি আন্দোলন কী?

উত্তর:- ইসলাম ধর্ম সংস্কারের উদ্দেশ্যে হাজি শরিয়ত উল্লাহের নেতৃত্বে উনিশ শতকে বাংলায় যে আন্দোলন গড়ে ওঠে তা ‘ফরাজি আন্দোলন’ নামে পরিচিত।

৭৫. পাগলপন্থীদের সরকারের বিচারক কে ছিলেন?

উত্তর:- পাগলপন্থীদের সরকারের বিচারক ছিলেন বকসু।

৭৬. কোন সংবাদপত্রের সম্পাদক নীলচাষিদের সবচেয়ে বেশি সহায়তা করেছিলেন?

উত্তর:- ‘হিন্দু প্যাট্রিয়ট’ পত্রিকার সম্পাদক হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায় নীলচাষিদের সবচেয়ে বেশি সহায়তা করেছিলেন।

৭৭. তিতুমিরের অনুগামীরা নিজেদের কী নামে অভিহিত করতেন?

উত্তর:- তিতুমিরের অনুগামীরা নিজেদের ‘হেদায়তী’ বলে অভিহিত করতেন।

৭৮. কবে, কাদের মধ্যে পলাশির যুদ্ধ হয়?

উত্তর:- ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে বাংলার নবাব সিরাজ-উদ্‌দ্দৌলা ও ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সেনাপতি রবার্ট ক্লাইভের মধ্যে পলাশির যুদ্ধ হয়।

৭৯. ফরাজি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?

উত্তর:- ফরাজি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন হাজি শরিয়ত উল্লাহ।

৮০. নীলচাষিদের আন্দোলনে প্রেরণা দেন এমন কয়েকজন বুদ্ধিজীবীর নাম লেখো।

উত্তর:- নীলচাষিদের আন্দোলনে প্রেরণা দেন এমন কয়েকজন বুদ্ধিজীবী হলেন হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়, শিশিরকুমার ঘোষ, মনোমোহন ঘোষ, কিশোরীচাঁদ মিত্র প্রমুখ।

৮১. কৃষ্ণদেব রায়ের বাড়ি আক্রমণের ফলে কী পরিণতি হয়?

উত্তর:- তিতুমির ৩০০ জন অনুগামী নিয়ে কৃষ্ণদেব রায়ের বাড়ি আক্রমণ করলে সংঘর্ষে বেশ কিছু মানুষ হতাহত হয়, মন্দির ধ্বংস এবং ঘরবাড়ি লুণ্ঠিত হয়।

৮২. নীল বিদ্রোহ কোন কোন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে?

উত্তর:- নীল বিদ্রোহ নদিয়া, যশোহর, খুলনা, ফরিদপুর, মুরশিদাবাদ, রাজশাহি, মালদহ, দিনাজপুর প্রভৃতি জেলায় ছড়িয়ে পড়ে।

৮৩. কে, কোথায় বাঁশের কেল্লা তৈরি করেন?

উত্তর:- বাংলায় ওয়াহাবি আন্দোলনের নেতা তিতুমির ২৪ পরগনা জেলার নারকেলবেড়িয়া গ্রামে বাঁশের কেল্লা তৈরি করেন।

৮৪. হাজি শরিয়ত উল্লাহ কে ছিলেন?

উত্তর:- হাজি শরিয়ত উল্লাহ ছিলেন বাংলার ফরাজি বিদ্রোহের নেতা যিনি ইসলাম ধর্ম সংস্কারের উদ্দেশ্যে ১৮২০ খ্রিস্টাব্দে ‘ফরাজি’ নামে একটি ধর্মীয় সম্প্রদায় প্রতিষ্ঠা করেন।

৮৫. পাগলপন্থী বিদ্রোহের মূল কারণ কী ছিল?

উত্তর:- পাগলপন্থী বিদ্রোহের মূল কারণ ছিল গারোদের ওপর অর্থনৈতিক শোষণ ও অত্যাচার।

৮৬. ফরাজি আন্দোলনের প্রকৃতি কীরূপ ছিল?

উত্তর:- ফরাজি আন্দোলন ছিল মূলত একটি ধর্মীয় আন্দোলন। তবে শোষণের বিরোধিতা এই আন্দোলনে স্পষ্ট ছিল।

৮৭. পাগলপন্থীদের সরকারের ফৌজদার কে ছিলেন?

উত্তর:- পাগলপন্থীদের সরকারের ফৌজদার ছিলেন দ্বীপচান।

৮৮. কে ‘বিশে ডাকাত’ নামে পরিচিত?

উত্তর:- নীল বিদ্রোহের নেতা বিশ্বনাথ সর্দার ‘বিশে ডাকাত’ নামে পরিচিত।

৮৯. কোন কোন অঞ্চলে সন্ন্যাসী ও ফকির বিদ্রোহের প্রসার ঘটে?

উত্তর:- বাংলার নাটোর, রংপুর, জলপাইগুড়ি, মেদিনীপুর, বীরভূম প্রভৃতি জেলায় সন্ন্যাসী ও ফকির বিদ্রোহের প্রসার ঘটে।

৯০. কবে, কাদের মধ্যে বক্সারের যুদ্ধ হয়?

উত্তর:- ১৭৬৪ খ্রিস্টাব্দে বাংলার নবাব মীরকাশিম ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সেনাপতি রবার্ট ক্লাইভের মধ্যে বক্সারের যুদ্ধ হয়।

৯১. ভারতে ওয়াহাবি আন্দোলনের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?

উত্তর:- ভারতে ওয়াহাবি আন্দোলনের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন উত্তরপ্রদেশের রায়বেরিলির বাসিন্দা সৈয়দ আহমেদ (১৭৮৬-১৮৩১ খ্রি.)।

৯২. কারা বাংলায় ‘ওয়াট টাইলার’ নামে পরিচিত?

উত্তর:- নীল বিদ্রোহের নেতা দিগম্বর বিশ্বাস ও বিষ্ণুচরণ বিশ্বাস বাংলায় ‘ওয়াট টাইলার’ নামে পরিচিত।

৯৩. তিতুমির কোথায় তাঁর সরকারের সদর দপ্তর প্রতিষ্ঠা করেন?

উত্তর:- তিতুমির বারাসাতের নিকটবর্তী নারকেলবেড়িয়া গ্রামে একটি বাঁশের কেল্লা তৈরি করে সেখানে তাঁর সদর দপ্তর প্রতিষ্ঠা করেন।

৯৪. কারা, কবে প্রথম নীল বিদ্রোহের সূচনা করেন?

উত্তর:- নদিয়ার কৃষ্ণনগরের চৌগাছা গ্রামে দিগম্বর বিশ্বাস ও বিষ্ণুচরণ বিশ্বাস ১৮৫৯ খ্রিস্টাব্দে চাষিদের ঐক্যবদ্ধ করে নীলচাষ বয়কটের মাধ্যমে নীল বিদ্রোহের সূচনা করেন।

৯৫. যেসব পত্রপত্রিকায় পাবনা বিদ্রোহের খবরগুলি ছাপা হত তার যে-কোনো একটির উল্লেখ করো।

উত্তর:- ‘হিন্দু হিতৈষণী’, ‘গ্রামবার্তাপ্রকাশিকা’, ‘সহচর’ প্রভৃতি পত্রিকায় এই বিদ্রোহের খবরগুলি ছাপা হত।

৯৬. পাবনা বিদ্রোহের কয়েকজন নেতার নাম লেখো।

উত্তর:- পাবনা বিদ্রোহের কয়েকজন উল্লেখযোগ্য নেতা ছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র রায়, শম্ভুনাথ পাল, ক্ষুদিমোল্লা প্রমুখ।

৯৭. পাবনা বিদ্রোহ কোন কোন জেলায় প্রসার লাভ করে?

উত্তর:- পাবনা বিদ্রোহ পাবনা, ঢাকা, ময়মনসিংহ, ত্রিপুরা, বাখরগঞ্জ, ফরিদপুর, রাজশাহি প্রভৃতি জেলায় প্রসার লাভ করে।

আরোও পড়ুন

Leave a Comment