দশম শ্রেণীর ইতিহাস দ্বিতীয় অধ্যায়: সংস্কারঃ- বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা হতে নব্যবঙ্গ গোষ্ঠীর নেতৃত্বে সমাজ সংস্কার আন্দোলন সম্পর্কে আলোচনা করা হল।
নব্যবঙ্গ গোষ্ঠীর নেতৃত্বে সমাজ সংস্কার আন্দোলন
প্রশ্ন:- নব্যবঙ্গ গোষ্ঠীর নেতৃত্বে সমাজ সংস্কার আন্দোলন ব্যাখ্যা করো।
ভূমিকা:- উনিশ শতকে হিন্দু কলেজের সবচেয়ে প্রভাবশালী অধ্যাপক ডিরোজিওর নেতৃত্বে তাঁর অনুগামী ছাত্রমণ্ডলী যে সক্রিয় সমাজসংস্কার আন্দোলন গড়ে তোলে তা নব্যবঙ্গ আন্দোলন বা ইয়ং বেঙ্গল মুভমেন্ট নামে পরিচিত।
অ্যাকাডেমিক অ্যাসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠা
হিন্দু কলেজের ছাত্রদরদী জনপ্রিয় অধ্যাপকডিরোজিওর প্রভাবে তাঁর অনুগামী ছাত্ররা লক, হিউম, টম পেইন, রুশো, ভলতেয়ার প্রমুখ দার্শনিকের মতবাদ এবং ফরাসি বিপ্লবের চিন্তাধারার সঙ্গে পরিচিত হন। ছাত্রদের মধ্যে স্বাধীন চিন্তা ও যুক্তিবাদের বিকাশ ঘটানোর উদ্দেশ্যে ডিরোজিও ১৮২৮ খ্রিস্টাব্দে অ্যাকাডেমিক অ্যাসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠা করেন।
অনুগামী ছাত্রদল
তার অনুগত ছাত্রদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন রামগোপাল ঘোষ, রামতনু লাহিড়ী, কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়, রসিককৃষ্ণ মল্লিক, প্যারীচাদ মিত্র, দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায় প্রমুখ।
আন্দোলন
ডিরোজিওর নেতৃত্বে তাঁর অনুগামী ছাত্রদল হিন্দুধর্মের অস্পৃশ্যতা, জাতিভেদপ্রথা, সতীদাহ প্রথা, মূর্তিপূজা প্রভৃতি কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সরব হয়। তাঁরা নারীশিক্ষা, নারীস্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা প্রভৃতির পক্ষে প্রচার চালান ।
উগ্রতা
নব্যবঙ্গ গোষ্ঠীর আন্দোলন শীঘ্রই উগ্র হয়ে ওঠে। তাঁরা নিষিদ্ধ মাংস ভক্ষণ করে, উপবীত ছিঁড়ে, ব্রাহ্মণ পুরোহিতদের দেখে ‘আমরা গোরুর মাংস খাই” বলে চেঁচিয়ে, কালীঘাটের মন্দিরে মাকালীর উদ্দেশ্যে ‘গুড মর্নিং, ম্যাডাম’ বলে সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করে।
পরিণাম
নব্যবঙ্গ গোষ্ঠীর উগ্রতায় আতঙ্কিত অভিভাবকরা হিন্দু কলেজ থেকে তাঁদের সন্তানদের ছাড়িয়ে নিয়ে যেতে শুরু করলে কলেজ কর্তৃপক্ষ ডিরোজিও-কে দায়ী করেন এবং তাঁকে কলেজ থেকে বিতাড়িত করেন। এর কিছুদিন পরেই জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ডিরোজিও মারা যান।
পত্রিকা প্রকাশ
ডিরোজিও প্রতিষ্ঠিত আকাডেমিক অ্যাসোসিয়েশনে এথেনিয়ায়। এছাড়া নব্যবঙ্গ গোষ্ঠীর উদ্যোগে ‘ক্যালাইডোস্কোপ’, ‘এনকোয়েরার’, ‘স্পেকটেটর’, ‘হিন্দু পাইওনিয়ার’ প্রভৃতি পত্রিকা প্রকাশিত হয়।
উপসংহার :- নব্যবঙ্গ গোষ্ঠীর আন্দোলন দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। এই আন্দোলন দেশের সমাজ সংস্কৃতির উপরেও স্থায়ী প্রভাব ফেলতে ব্যর্থ হয়। গবেষক বিনয় ঘোষের মতে, তারা প্রগতিশীলতার নামে কেবল উগ্রতা ব্যক্ত করেছিল।